কলবাড়ী নেকজানিয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতা কে?
প্রশ্নটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ। কারণ একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ইতিহাস জানতে হলে এর পেছনে যাঁদের শ্রম, ত্যাগ, অর্থ, জমি ও আন্তরিকতা জড়িয়ে আছে, তাঁদের অবদান যথাযথভাবে তুলে ধরা প্রয়োজন।
কাগজে-কলমে প্রতিষ্ঠাতা হিসেবে কার নাম রয়েছে, তা আমার জানা নেই। তবে বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ গ্রহণ, আর্থিক সহযোগিতা, জমি ক্রয় এবং সার্বিক পৃষ্ঠপোষকতার ক্ষেত্রে আলহাজ্ব জি. এম. সাইদুর রহমান (সুয়েদ গাজী)-এর অবদান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তিনি ছিলেন বিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি।
তাঁর মায়ের নাম নেকজান বিবি।তাঁর পিতার নাম জি. এম. আমির আলী।
বিদ্যালয়টির নামকরণ করা হয়েছে তাঁর মায়ের নামানুসারে। সেই নাম থেকেই বিদ্যালয়ের নাম হয় নেকজানিয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়।
বিদ্যালয়টির যাত্রা শুরু হয়েছিল নদীর ওপারে কলবাড়ীতে, তাঁদের নিজস্ব জমিতে। পরবর্তী সময়ে নদীর এপারে মুন্সিগঞ্জ বাজারসংলগ্ন বুড়িগোয়ালিনী ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের পানখালী এলাকায় বিদ্যালয়টি স্থানান্তর করা হয়।
আজ সুন্দরবনসংলগ্ন দক্ষিণাঞ্চলের অসংখ্য মানুষের শিক্ষার আলো ছড়িয়ে দেওয়ার পেছনে এই বিদ্যালয়ের অবদান অপরিসীম। প্রজন্মের পর প্রজন্ম এই প্রতিষ্ঠান থেকে শিক্ষা নিয়ে নিজেদের জীবন গড়েছে, সমাজ ও দেশের বিভিন্ন ক্ষেত্রে অবদান রাখছে।
আলহাজ্ব জি. এম. সাইদুর রহমান (সুয়েদ গাজী)-এর এই মহৎ উদ্যোগ ও অবদানকে আমি গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করছি। একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান গড়ে তোলা মানে শুধু একটি ভবন নির্মাণ নয়; বরং একটি অঞ্চলের ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য আলোর পথ তৈরি করে দেওয়া।
তিনি নিঃসন্দেহে একজন গুণী ও শ্রদ্ধেয় মানুষ।
আমাদের মনে রাখতে হবে, যে সমাজ গুণী মানুষের অবদানকে মূল্যায়ন করতে জানে না, সেই সমাজে নতুন গুণী মানুষের জন্ম ও বিকাশ বাধাগ্রস্ত হয়।
তিনি চির স্মরনীয় হয়ে থাকবেন এই এলাকার মানুষের কাছে, স্কুলের শিক্ষার্থীদের নিকট, শিক্ষানুরাগী মানুষের নিকট সর্বপরি আপামর জনসাধারণের নিকট।
স্যালুট আপনাকে, শ্রদ্ধা রইলো আপনার প্রতি।
আল্লাহ আপনার মঙ্গল করুন।